Published : 11 Aug 2026, 07:16 PM
কুষ্টিয়ায় অবস্থিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার একটি চাঞ্চল্যকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এই এক মিনিটের বেশি দৈর্ঘ্যের ভিডিওটি প্রকাশিত হওয়ার পর অবিলম্বে ঘটনাস্থলে পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা পরিদর্শন করেন। কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের পাশে শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামের সামনে নির্মিত এই স্মৃতিস্তম্ভটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত কঠোর। এখানে প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা পুলিশি নজরদারির অধীনে থাকে। 'কুষ্টিয়া ইনসাইডারস' নামে একটি আইডিতে পোস্ট করা ভিডিওতে আগুন দেওয়ার দৃশ্য দেখা যায়, যা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কিছু সদস্যও এটি শেয়ার করেছেন। স্মৃতিস্তম্ভের গায়ে পোড়ার কোনো স্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে। তবে এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
স্মৃতিস্তম্ভের নিরাপত্তায় একজন এএসআইয়ের নেতৃত্বে আরও দুজন কনস্টেবল নিযুক্ত আছেন, এবং গতকালও তাঁরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের গাফিলতি আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভিডিওতে রাতের অন্ধকারে একজনকে একটি বোতল দিয়ে স্মৃতিস্তম্ভে তরল পদার্থ ছিটাতে এবং এরপর মেসের কাঠি জ্বালিয়ে নিক্ষেপ করার দৃশ্য ধরা পড়ে। ভিডিওটিতে এক পুরুষের কণ্ঠস্বর শোনা যায়, যেখানে 'ভয় করি না বুলেট বোমা, শেখ হাসিনা আসবে-বাংলাদেশ হাসবে', 'আমার সোনার বাংলায় রাজাকারের ঠাঁই নাই', 'জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু' ইত্যাদি স্লোগান উচ্চারিত হচ্ছে। একই কণ্ঠে আরও শোনা যায়, 'উপরে মার উপরে মার'। এছাড়াও জঙ্গিবাদীদের দ্বারা নেত্রীকে বিতাড়িত করার এবং মানব না করার মতো বক্তব্যও শোনা যায়। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর দুপুরে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার সরকার এবং কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বরসহ পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ওসি কবির হোসেন জানান, স্মৃতিস্তম্ভে কোনো সুস্পষ্ট দাগ দেখা গেলেও অন্য কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। স্মৃতিস্তম্ভের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এএসআইয়ের নেতৃত্বে দুজন কনস্টেবল নিযুক্ত আছেন এবং তাদের কার্যকলাপের পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চলছে। জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুনের এই ঘটনায় পুলিশ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জাকির হোসেন প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন যে, জেলা প্রশাসক একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন এবং পুলিশি নিরাপত্তা ছিল। কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।।
জিপিএ-৫ অর্জনকারী যমজ দুই ভাই: স্বপ্ন দেখেন বুয়েটে প্রকৌশলী হওয়ার, উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথে